মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলা প্রশাসনের পটভূমি

হাজার বছরের ইতিহাস আর ঐতিহ্যে লালিত বাংলাদেশের মানচিত্রে সিরাজগঞ্জের অবস্থান খুব বেশি পুরাতন নয়। মাত্র কয়েক শত বছর আগেও সিরাজগঞ্জ শহরের কোন অস্তিত্ব ছিল না । ছিল না বৃহৎ যমুনা নদী। যমুনা ছিল খাল। ইতিহাসে জানা যায়, এক ধনাঢ্য জমিদার এই খাল নতুন করে খনন করেন। ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত রেনেলের মানচিত্র যমুনা নামেই একটি ছোট্ট খালের চিত্র রয়েছে। ১৭৬২ সালে প্রবল ভূমিকম্পে ব্রক্ষপুত্র নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে। যমুনা খাল দিয়ে প্রবাহিত হল নতুন স্রোত ধারা। ১৮০৮ সালে বুকানন হ্যমিলটনের ম্যাপে যমুনাকে বিশাল নদী রুপে দেখা যায়। সিরাজগঞ্জ সদরে বেশ বড় বড় জমিদারদের বসবাস ছিল। ১৮০৮ সাল থেকে বর্তমান সিরাজগঞ্জ সদরের জন বসতি গড়ে উঠে। নোঙ্গর করা জাহাজকে কন্দ্রে করে গড়ে উঠে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নবাব মুরশিদকুলি খাঁর আমলে (১৭০৩-১৭২৬) সিরাজগঞ্জ মহকুমার একটি বিরাটঅংশ টাঙ্গাইল জেলার কাগমারী ও বাড়বাজু জমিদারীর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মোঘল আমলে বড়বাজু পরগনার জমিদারীর উত্তরাধিকারী হন। তার বংশধর সিরাজ আলি চৌধুরী স্বেচ্ছায় বন্দর শহর গড়তে এগিয়ে আসেন এবং দান করেন অনেক জায়গা জমি তারই নাম অনুসারে সিরাজগঞ্জ মহকুমার নামকরণ করা হয়(পাবনা গেজেট পৃঃ নং-৪০৮)।সিরাজগঞ্জ পূর্বে ময়মনসিংহে জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৪৮ সালে পাবনা জেলার পূর্ব সীমানা যমুনা নদী বরাবর নির্ধারণ করা হয়। যমুনা নদী গতি পরিবর্তনের কারণে ১৮৫৫ সিরাজগঞ্জ থানাকে পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত করাহেয় (পাবনা গেজেট পৃঃ নং-৪৩)। ১৮৯৩ সালে শহরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত (কাটাখালী) বড়াল নদীর উপর নির্মিত হয় খুটিবিহীন ইলিয়ট ব্রিজ আজও কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৮৪ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে সিরাজগঞ্জ পাবনা জেলার মহকুমা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত ঠেকলেওঅর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আপনবৈশিষ্ট্যে সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত ছিল.
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা, সংস্কৃতিতে গৌরবময় ঐতিহ্যের অধিকারী.ঔপনিবেশিক পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করার আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশেরস্বাধীনতার সংগ্রামে সিরাজগঞ্জের অনেককৃতি সন্তানের নাম ইতিহাসের পাতায়স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে . সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী, মাওলানা আব্দুল হামিদখান ভাসানী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এম, মনসুর আলী, ড. গোলাম মাকসুদহিলালী, গণিত সম্রাট যাদব চক্রবর্তী, ড. আব্দুল্লাহ আল মুতি সরফুদ্দীন , তত্কালীন পাকিস্তানের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, ড. শামসুলইসলাম, মেহের উল্লাহসহ অনেক বহমুখী প্রতিভার জন্মভূমি সিরাজগঞ্জ সদরঐতিহ্যের স্বাক্ষর ভন করে চলছে. পীর আফজাল মাহমুদ (র:) এর মাজার এই শহরেইঅবস্থিত এবং ভাসানী রোড, জেসি রোড, হিলালী রোড, আলমাহমুদ এভিনিউ, দরগাহ রোডইত্যাদি.
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিপুল ঐতিহ্যের অধিকারী. শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ উপহারযমুনা বহুমুখী সেতু সিরাজগঞ্জ জেলাকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসাবেমর্যাদা দিয়েছে; যোগাযোগ ক্ষেত্রে দিয়েছে অভাবনীয় সাফল্য. সিরাজগঞ্জ থেকেদেশের যে কোন জায়গায় রেল, বাস ও নৌপথে সহজেই যাতায়াত করা যায়.
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো: আলী সিরাজগঞ্জউপজেলার ওয়েবসাইটনির্মান করে তাকে ডিজিটাল বাংলাদেশের সাথে সম্পৃক্ত করে জনগনের কাছে নিয়েএসেছেন যাতে করেতথ্য সরবরাহ করে ও মন্তব্য গ্রহণপূর্বক সিরাজগঞ্জকে আরোআধুনিক উপজেলা করা যায়.

ছবি